ষ্টাফ রিপোর্টার,২০ আগস্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ) : প্রায় তিন দশক ধরে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লী থাকলেও এতদিন কোনো জেলা প্রশাসক সেখানে যাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর প্রথম বারের মতো বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি এই বেদে পল্লী পরিদর্শন করেন। এদিন জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে বেদে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া পল্লীর ১২ জনকে ঢেউটিন ও প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মাঝে খেলনা বিতরণ করা হয়। বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ, খাস জমি বরাদ্দ এবং ২৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতি শ্রুতিদেন ডিসি।
এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, “সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

ঢাকা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ধামরাই উপজেলায়। তবে চলতি বছর এখানে কোনো প্রকার অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম। তিনি আরোও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র বৈধ ও সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলোকেই কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। এর বাইরে নিয়মনীতি অমান্য করে গড়ে ওঠা বাকি সব অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

দিনব্যাপী এই সফরে ধামরাইয়ে শিক্ষা, ক্রীড়া এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল, তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী, অসহায় মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে সহায়তা ও সামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া শিক্ষা ও মেধাবী সংবর্ধনা, ধামরাই উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৬ সালের পরীক্ষায় এ-প্লাস প্রাপ্ত ১৮৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উপকরণ ও সহায়তা বিতরণে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিচালিত স্কুলের জন্য শিক্ষা ও খেলনা সামগ্রী প্রদান করা হয়। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ রোগীকে আর্থিক সহায়তা, ১০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। আত্মকর্মসংস্থান ও ক্রীড়া সামগ্রীর ক্ষেত্রে স্বনিভর্বতা অর্জনে ৬ জন উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীর মাঝে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী এবং গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। পরিবেশ রক্ষা কর্মসূচিতে দুপুরে আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলে ৭০০ শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে গাছের চারা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

ধামারই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল-মামুন সাভাপতিত্বে এসব কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ধামরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফাহিম সাহরিয়ার,ঢাকা ডিসি অফিসের সহকারী কমিশনার মোঃ ইসরাফিল জাহান, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সামছুল ইসলাম,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন,কৃষি অফিসার আরিফুর রহমান,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম, ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুল হুদা খান ও কুল্লা ইউনিয়নের প্রশাসক ও ইউআরসির উপজেলা ইন্সট্রাক্টর জোহরা খাতুনসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগ ও বহুমুখী সফরকে ধামরাইয়ের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
